উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি

বর্তমানে কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে উইন্ডোজ ১১ বেশ জনপ্রিয়। নতুন কম্পিউটার কেনার পর কিংবা পুরোনো উইন্ডোজের পরিবর্তে নতুন সংস্করণ ব্যবহার করতে অনেকেই নিজের কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করতে চান। কিন্তু উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকের কাছে কাজটি কঠিন মনে হয়। 

উইন্ডোজ-১১-ইনস্টল-করার-সহজ-পদ্ধতি

আসলে কয়েকটি বিষয় আগে থেকে ঠিকভাবে প্রস্তুত করে নিলে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। প্রয়োজনীয় ফাইল সংগ্রহ, পেনড্রাইভ প্রস্তুত, কম্পিউটার থেকে পেনড্রাইভ চালু করা এবং সঠিক ড্রাইভ নির্বাচন এই কয়েকটি ধাপ ভালোভাবে বুঝে নিলেই কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়। এই লেখায় একদম সহজ ভাষায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। যারা আগে কখনো নিজের কম্পিউটারে উইন্ডোজ ইনস্টল করেননি, তারাও ধাপে ধাপে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। তবে ইনস্টল করার সময় একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন ভুল ড্রাইভ নির্বাচন করলে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ বুঝে তারপর কাজ করুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার আগে যা জানা দরকার

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার আগে প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করবেন, নাকি আগের উইন্ডোজের ওপর নতুন সংস্করণে যাবেন। নতুন করে ইনস্টল করলে কম্পিউটারের নির্দিষ্ট ড্রাইভে থাকা আগের সিস্টেমের ফাইল পরিবর্তন হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগে নিরাপদ জায়গায় রাখা প্রয়োজন। আপনার কম্পিউটারে যদি আগে থেকেই উইন্ডোজ ১০ থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সেটি সরাসরি নতুন সংস্করণে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। আবার অনেক ব্যবহারকারী কম্পিউটার পরিষ্কার করে নতুনভাবে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে চান। এই দুই পদ্ধতির কাজ এক নয়।

নতুন করে ইনস্টল করার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি প্রস্তুত করা পেনড্রাইভ ব্যবহার করা হয়। পেনড্রাইভ থেকে কম্পিউটার চালু করে উইন্ডোজের ইনস্টলেশন শুরু করা যায়। তবে ইনস্টলেশনের আগে শুধু উইন্ডোজের ফাইল সংগ্রহ করলেই হবে না। আপনার কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ চালানোর উপযোগী কি না, প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না এবং পেনড্রাইভ ঠিকভাবে প্রস্তুত হয়েছে কি না এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করতে যা যা লাগবে

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার জন্য প্রথমে একটি ভালো মানের পেনড্রাইভ প্রয়োজন হবে। পেনড্রাইভটি ইনস্টলেশনের জন্য প্রস্তুত করার সময় এর ভেতরে থাকা তথ্য মুছে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই পেনড্রাইভের প্রয়োজনীয় ফাইল অন্য জায়গায় কপি করে রাখুন। এরপর প্রয়োজন হবে উইন্ডোজ ১১-এর ইনস্টলেশন ফাইল। নিরাপত্তার জন্য সম্ভব হলে মাইক্রোসফটের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ফাইল সংগ্রহ করুন। অজানা ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া পরিবর্তিত উইন্ডোজ ব্যবহার করা উচিত নয়।

উইন্ডোজ-১১-ইনস্টল-করতে-যা-যা-লাগবে

পেনড্রাইভ প্রস্তুত করার জন্য আরেকটি সচল কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হতে পারে। আপনার যে কম্পিউটারে উইন্ডোজ ইনস্টল করবেন সেটি যদি বর্তমানে চালু থাকে, তাহলে সেই কম্পিউটার দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তুতির কাজ করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইনস্টলেশনের আগে আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলের নিরাপদ কপি থাকা। এতে কোনো ভুল হলেও তথ্য হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ চালাতে পারবে কি না

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার আগে কম্পিউটারের সামর্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। মাইক্রোসফটের নির্ধারিত ন্যূনতম শর্ত অনুযায়ী কম্পিউটারে কমপক্ষে ১ গিগাহার্টজ গতির দুই বা তার বেশি কোরযুক্ত সমর্থিত ৬৪-বিট প্রসেসর, ৪ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৬৪ গিগাবাইট সংরক্ষণ ক্ষমতা থাকতে হয়। এ ছাড়া ইউইএফআই, নিরাপদ চালু করার সুবিধা এবং টিপিএম ২.০ সাপোর্ট দরকার। গ্রাফিকসের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মান পূরণ করতে হয়।

অনেকে মনে করেন শুধু ৪ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৬৪ গিগাবাইট জায়গা থাকলেই উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করা যাবে। আসলে বিষয়টি এমন নয়। প্রসেসর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যও মিলতে হবে। তাই ইনস্টল করার আগে আপনার কম্পিউটারটি উপযুক্ত কি না যাচাই করে নেওয়া ভালো। এতে ইনস্টলেশনের মাঝখানে অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

উইন্ডোজ ইনস্টলের আগে ফাইল সংরক্ষণ

উইন্ডোজ ইনস্টল করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ করা। অনেক ব্যবহারকারী এই বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে সরাসরি উইন্ডোজ ইনস্টল করতে শুরু করেন। পরে ভুল ড্রাইভ নির্বাচন করে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও বা নথি হারিয়ে ফেলেন। আপনার ডেস্কটপ, ডকুমেন্টস, ডাউনলোডস, ছবি এবং ভিডিও ফোল্ডারে প্রয়োজনীয় তথ্য আছে কি না দেখে নিন। অফিসের কাজ, পড়াশোনার ফাইল, ব্যক্তিগত ছবি, হিসাবের তথ্য বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকলে সেগুলোর কপি অন্য জায়গায় রাখুন।

আপনি চাইলে আলাদা পেনড্রাইভ, অন্য সংরক্ষণ যন্ত্র অথবা অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ফাইল রাখতে পারেন। তবে ব্যাকআপ নেওয়ার পর ফাইলগুলো ঠিকভাবে খোলা যাচ্ছে কি না সেটিও একবার পরীক্ষা করে নিন। ব্যাকআপ সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করার কাজে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

উইন্ডোজ ১১-এর ইনস্টলেশন ফাইল সংগ্রহ

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার জন্য প্রথমে এর মূল ইনস্টলেশন ফাইল সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইটে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি দেওয়া থাকে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ইনস্টলেশন সহকারী, ইনস্টলেশন মাধ্যম তৈরির ব্যবস্থা অথবা আইএসও ফাইল ব্যবহার করা যায়।

আপনি যদি পেনড্রাইভ দিয়ে নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে চান, তাহলে ইনস্টলেশন মাধ্যম তৈরির ব্যবস্থা ব্যবহার করে পেনড্রাইভ প্রস্তুত করতে পারেন। অজানা ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া পরিবর্তিত বা সন্দেহজনক উইন্ডোজ ব্যবহার না করাই ভালো। এসব ফাইলে ক্ষতিকর সফটওয়্যার থাকার ঝুঁকি থাকতে পারে।

উইন্ডোজ ১১-এর জন্য পেনড্রাইভ প্রস্তুত

উইন্ডোজ ১১ নতুন করে ইনস্টল করার জন্য পেনড্রাইভকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করতে হয়। সাধারণ পেনড্রাইভে শুধু উইন্ডোজের ফাইল কপি করে দিলেই সবসময় কম্পিউটার সেটি থেকে চালু হবে না। পেনড্রাইভ প্রস্তুত করার সময় মাইক্রোসফটের ইনস্টলেশন মাধ্যম তৈরির ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। প্রথমে পেনড্রাইভ কম্পিউটারে যুক্ত করুন। এরপর প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করে উইন্ডোজের ইনস্টলেশন ফাইল পেনড্রাইভে তৈরি করুন।

এই প্রক্রিয়ায় পেনড্রাইভের আগের তথ্য মুছে যেতে পারে। তাই কাজ শুরুর আগে আবারও নিশ্চিত হয়ে নিন যে পেনড্রাইভে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নেই। পেনড্রাইভ প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটি নিরাপদে রাখুন। এরপর যে কম্পিউটারে উইন্ডোজ ইনস্টল করবেন সেখানে পেনড্রাইভটি ব্যবহার করতে পারবেন।

পেনড্রাইভ থেকে কম্পিউটার চালু করা

পেনড্রাইভ প্রস্তুত করার পর কম্পিউটার বন্ধ করুন এবং পেনড্রাইভটি কম্পিউটারে সংযুক্ত করুন। এরপর কম্পিউটার চালু করার সময় নির্দিষ্ট বাটন চাপলে চালু করার মাধ্যম নির্বাচন করার পর্দা আসতে পারে। কোন বাটন চাপতে হবে তা কম্পিউটারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। অনেক কম্পিউটারে এফ ১২, এফ ১১, এফ ৯, এস্কেপ বা অন্য কোনো বাটন ব্যবহার করা হয়। আবার সেটিংসের অংশে প্রবেশ করার জন্য এফ২ বা ডিলিট বাটন ব্যবহার হতে পারে।

চালু করার মাধ্যমের তালিকায় পেনড্রাইভের নাম দেখা গেলে সেটি নির্বাচন করুন। এরপর কম্পিউটার পেনড্রাইভ থেকে প্রয়োজনীয় ফাইল পড়বে এবং উইন্ডোজ ১১-এর ইনস্টলেশন পর্দা চালু হবে। যদি পেনড্রাইভের নাম না আসে, তাহলে অন্য ইউএসবি পোর্টে পেনড্রাইভ লাগিয়ে আবার চেষ্টা করতে পারেন। তবুও কাজ না হলে পেনড্রাইভটি ঠিকভাবে প্রস্তুত হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।

ধাপে ধাপে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল

পেনড্রাইভ থেকে কম্পিউটার চালু হওয়ার পর উইন্ডোজ ১১-এর ইনস্টলেশন পর্দা দেখতে পাবেন। প্রথম দিকে ভাষা, সময় এবং কিবোর্ডের বিন্যাস নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করে পরবর্তী ধাপে যান। এরপর উইন্ডোজ ইনস্টল করার বিকল্প নির্বাচন করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে পণ্য চাবি বা লাইসেন্সের তথ্য চাওয়া হতে পারে। আপনার বৈধ লাইসেন্স থাকলে সেটি ব্যবহার করুন। যদি পরে দেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে সেই বিকল্পও নির্বাচন করা যেতে পারে।

এরপর উইন্ডোজের সংস্করণ নির্বাচন করতে বলা হলে আপনার বৈধ লাইসেন্সের সঙ্গে মিল রেখে সংস্করণ নির্বাচন করুন। লাইসেন্সের শর্ত মেনে নেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আসে কোন ড্রাইভে উইন্ডোজ ইনস্টল করবেন সেটি নির্বাচন করা। এই ধাপে কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনার কম্পিউটারে থাকা ড্রাইভ ও তথ্য ভালোভাবে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

উইন্ডোজ দেওয়ার সময় সঠিক ড্রাইভ নির্বাচন

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে ড্রাইভ নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি। এখানে ভুল করলে আপনার ব্যক্তিগত ফাইল মুছে যেতে পারে। সাধারণত কম্পিউটারে একাধিক ড্রাইভ বা ড্রাইভের একাধিক ভাগ দেখা যায়। এগুলোর প্রতিটির আকার আলাদা হতে পারে। তাই আগে থেকেই জেনে রাখুন কোন ড্রাইভে আপনার পুরোনো উইন্ডোজ রয়েছে।

যে ড্রাইভে আপনার ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আছে সেটি ভুল করে মুছে ফেলবেন না। বিশেষ করে কোনো ড্রাইভ মুছে ফেলা বা নতুনভাবে সাজানোর আগে সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। আপনি যদি ড্রাইভ শনাক্ত করতে না পারেন, তাহলে অনুমান করে কোনো ড্রাইভ মুছে ফেলবেন না। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিন। সঠিক ড্রাইভ নির্বাচন করার পর ইনস্টলেশন শুরু করলে কম্পিউটার প্রয়োজনীয় ফাইল কপি করবে। এ সময় কম্পিউটার কয়েকবার নিজে থেকে পুনরায় চালু হতে পারে। এটি সাধারণ বিষয়।

ইনস্টল হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাজ

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল হয়ে গেলে প্রথমে প্রাথমিক সেটআপ সম্পন্ন করতে হবে। এখানে ব্যবহারকারীর নাম, অঞ্চল, কিবোর্ড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করতে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেটআপের সময় ইন্টারনেট সংযোগ এবং মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হতে পারে। ডেস্কটপ চালু হওয়ার পর প্রথমে ইন্টারনেট, শব্দ, কিবোর্ড, মাউস, ওয়াই-ফাই এবং পর্দার প্রদর্শন ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন।

এরপর উইন্ডোজের হালনাগাদ ব্যবস্থা থেকে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ ইনস্টল করুন। অনেক সময় উইন্ডোজ নিজেই প্রয়োজনীয় চালক সফটওয়্যার খুঁজে ইনস্টল করে দেয়। যদি কোনো যন্ত্র কাজ না করে, তাহলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের প্রস্তুতকারকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সঠিক চালক সফটওয়্যার সংগ্রহ করুন। সবশেষে আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ব্যাকআপ থেকে আবার কম্পিউটারে আনুন।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল না হলে করণীয়

কখনো কখনো উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন: পেনড্রাইভ থেকে কম্পিউটার চালু না হওয়া, ইনস্টলেশন আটকে যাওয়া, ড্রাইভ দেখা না যাওয়া অথবা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ার বার্তা আসা। প্রথমে আপনার কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১-এর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করছে কি না পরীক্ষা করুন। এরপর পেনড্রাইভটি ঠিকভাবে প্রস্তুত হয়েছে কি না দেখুন।

পেনড্রাইভ থেকে চালু না হলে অন্য ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। প্রয়োজনে আবার নতুন করে পেনড্রাইভ প্রস্তুত করুন। ইনস্টলেশনের সময় ড্রাইভ না দেখালে সংরক্ষণ যন্ত্র বা কম্পিউটারের সেটিংসের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের মতো করে গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস পরিবর্তন না করে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা ভালো।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের সময় সতর্কতা

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সময় সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ধৈর্য ধরে কাজ করা। ইনস্টলেশনের কোনো ধাপ না বুঝলে অনুমান করে এগিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথম সতর্কতা হলো ব্যাকআপ। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের কপি না রেখে কখনোই নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল শুরু করবেন না। দ্বিতীয় সতর্কতা হলো ড্রাইভ নির্বাচন। ভুল ড্রাইভ নির্বাচন করলে তথ্য হারাতে পারেন। তাই ড্রাইভের নাম ও আকার ভালোভাবে যাচাই করুন।

তৃতীয় সতর্কতা হলো ইনস্টলেশন ফাইল। সম্ভব হলে মাইক্রোসফটের মূল উৎস থেকে ফাইল সংগ্রহ করুন। অজানা উৎসের পরিবর্তিত উইন্ডোজ ব্যবহার করলে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চতুর্থত, অবৈধ সক্রিয়করণ সফটওয়্যার ব্যবহার না করে বৈধ লাইসেন্স ব্যবহার করুন। এতে কম্পিউটারের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা সহজ হবে।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের পর কম্পিউটার ধীর হলে

নতুন করে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার পর কিছু সময় কম্পিউটার আগের তুলনায় ধীর মনে হতে পারে। কারণ ইনস্টলের পর উইন্ডোজ বিভিন্ন হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারে। প্রথমে সব হালনাগাদ সম্পন্ন হতে দিন। এরপর অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।

কম্পিউটারে পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখুন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার মুছে ফেলুন। যদি কম্পিউটারে খুব কম র‍্যাম থাকে বা পুরোনো ধীরগতির স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, তাহলে কম্পিউটারের গতি কম হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রাংশ উন্নত করার কথা ভাবতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করতে কত জিবি জায়গা লাগে?

মাইক্রোসফটের ন্যূনতম শর্ত অনুযায়ী উইন্ডোজ ১১ চালানোর জন্য কমপক্ষে ৬৪ গিগাবাইট সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রয়োজন। তবে ব্যবহারিকভাবে এর চেয়ে বেশি খালি জায়গা রাখা ভালো।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করলে কি সব ফাইল মুছে যায়?

না, সবসময় সব ফাইল মুছে যায় না। আপনি কোন পদ্ধতিতে এবং কোন ড্রাইভে উইন্ডোজ ইনস্টল করছেন তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তবে নতুন করে ইনস্টল করার সময় ভুল ড্রাইভ নির্বাচন করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে যেতে পারে।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের জন্য কত জিবি র‍্যাম প্রয়োজন?

মাইক্রোসফটের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কমপক্ষে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম প্রয়োজন। তবে বেশি র‍্যাম থাকলে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে সুবিধা হয়।

পেনড্রাইভ ছাড়া উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করা যায়?

হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে পেনড্রাইভ ছাড়াও উইন্ডোজ ১১-এ যাওয়া যায়। তবে নতুন করে ইনস্টল করার ক্ষেত্রে প্রস্তুত করা পেনড্রাইভ একটি পরিচিত ও সহজ পদ্ধতি।

পুরোনো কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করা যাবে?

কম্পিউটারটি উইন্ডোজ ১১-এর নির্ধারিত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করলে ইনস্টল করা যাবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করলে জোর করে ইনস্টল করার আগে নিরাপত্তা, হালনাগাদ এবং স্থায়িত্বের বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের পর ইন্টারনেট না চললে কী করব?

প্রথমে ওয়াই-ফাই বা নেটওয়ার্ক যন্ত্রটি ঠিকভাবে শনাক্ত হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে কম্পিউটার প্রস্তুতকারকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সঠিক নেটওয়ার্ক চালক সফটওয়্যার ইনস্টল করুন।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের পর শব্দ না হলে কী করব?

শব্দের যন্ত্রের চালক সফটওয়্যার ঠিকভাবে ইনস্টল হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে প্রস্তুতকারকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সঠিক চালক সফটওয়্যার সংগ্রহ করুন।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার আগে ব্যাকআপ কেন নিতে হয়?

ইনস্টলেশনের সময় ভুল ড্রাইভ নির্বাচন বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ফাইলের কপি রাখা নিরাপদ।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল হতে কত সময় লাগে?

এর নির্দিষ্ট সময় বলা যায় না। কম্পিউটারের গতি, পেনড্রাইভ এবং ইনস্টলেশনের পদ্ধতির ওপর সময় কম বেশি হতে পারে।

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টলের পর হালনাগাদ করা কি জরুরি?

উইন্ডোজ ইনস্টলের পর নতুন হালনাগাদ আছে কি না পরীক্ষা করা ভালো। এতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের হালনাগাদ পাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা

উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার পদ্ধতি প্রথমবার দেখলে একটু কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু পুরো কাজটি কয়েকটি ধাপে ভাগ করে করলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়। প্রথমে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষা করতে হবে, এরপর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সংরক্ষণ করে উইন্ডোজের ইনস্টলেশন ফাইল সংগ্রহ করতে হবে। এরপর পেনড্রাইভ প্রস্তুত করে সেটি থেকে কম্পিউটার চালু করতে হবে। ইনস্টলেশনের সময় ভাষা, কিবোর্ড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেটিংস নির্বাচন করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক ড্রাইভ নির্বাচন করা।

বিশেষ করে ড্রাইভ মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করার সময় কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগে নিরাপদ জায়গায় রাখুন। উইন্ডোজ ইনস্টল হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ এবং চালক সফটওয়্যার ইনস্টল করে কম্পিউটারটি ব্যবহার শুরু করুন। আশা করি, এই সহজ গাইড অনুসরণ করে উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। ধাপে ধাপে এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করলে নিজের কম্পিউটারেও উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার প্রক্রিয়া বুঝতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জানো এনিথিং এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url